আধিপত্য বিস্তারে দাঙ্গা সৃষ্টি কোন তাবলিগের বৈশিষ্ট্য

0
আলী আজম ::

আজ থেকে আনুমানিক পাঁচ ছয় বছর পূর্বের ঘটনা। আমাদের হাটহাজারী থানার অন্তর্গত আমান বাজারের পূর্ব পার্শ্বে এক মসজিদে দাওয়াতে তাবলিগের একটা জামাত এসেছিল। যেই মসজিদে জামাত এসেছিল সেই মসজিদটা আমাদের আক্বীদার হলেও আশেপাশে প্রায় সব এলাকা ছিল প্রচণ্ড তাবলীগ বিদ্বেষী মাজারপন্থী বিদআতি। তাবলিগের জামাতটি এক রাতে নিজেদের যাবতীয় সব আমল সম্পন্ন করে শুয়ে পড়ে। মধ্যরাতে সেই এলাকার কিছু ভ্রষ্ট বিদআতি সুপরিকল্পিতভাবে এলাকায় ডাকাত এসেছে বলে একটা আওয়াজ তোলে গোটা এলাকায় ভীতিকর এক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ফলে ঘুমন্ত অনেক মানুষ ঘুম ছেড়ে বাইরে এসে পড়ে। সেই সাথে তাবলিগি সাথীদেরও হৈচৈ শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তারাও উঁকিঝুঁকি দিয়ে বাহিরে দেখতে থাকে। এই সুযোগে সেই ভ্রষ্ট বিপথগামী বিদআতি দুষ্কৃতিকারীরা এলোপাথাড়িভাবে তাবলীগ জামাতের সাথীদের উপর ডাকাত ডাকাত আওয়াজ তোলে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধোর করতে লাগলো। সেই সময়টাতে তাবলীগি ভাইদের রক্ষার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। আসার কথাও না। কারণ সেই এলাকায় বিদআতিদের প্রভাব খুবই বেশি। তাছাড়া আশেপাশে আমাদের কেউ জানতো না যে তাবলীগি সাথীদের উপর হামলার কথা।

সেদিন পথভ্রষ্ট বিদআতিরা তাবলিগি ভাইদের মেরে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি রক্তে রঞ্জিত করেছিল পবিত্র মসজিদটি পর্যন্ত। অথচ তাবলিগি ভাইয়েরা ছিল সম্পূর্ণ নির্দোষ। বিদআতিরা হিংসাপরায়ণ হয়ে ডাকাতের জুজু তোলে সেদিন তাবলীগের সাথীদের উপর ন্যক্কারজনক সেই হামলা করেছিল। পরবর্তীতে সেই ষড়যন্ত্রের কথা জনমুখে প্রকাশ পায়। থানা থেকে পুলিশ এসে আমীর সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন আপনারা মামলা করুন। আমরা দোষিদের খুঁজে যথাযথ বিচার করব। কিন্তু সেই জামাতের আমীর সাহেব বলেন ‘না। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। তারা না বুঝে ভুল করেছে’।

সেই ঘটনায় তাবলিগের প্রতি সেই এলাকার মানুষের টান আগে থেকে আরো বৃদ্ধি পেলো। এটাই তো নিয়ম ছিল। তাবলীগওয়ালা মানুষকে ক্ষমার সবক দেন। নিজেরা অন্যকে ক্ষমা করেন। এর ফলে তাবলিগ ছিল ভ্রাতৃত্ব আর সৌহার্দ্যের মডেল। তাবলিগিদের আচরণ আর আক্বলাখ দেখে কতো মানুষ এমনিতেই পরিবর্তন হয়েছিল তার ফিরিস্তি বড্ড বিশাল। আমরা সকলেই জানি তাবলিগ নবীওয়ালা কাজ। আর নবীওয়ালা কাজ হলো সকল অবুঝ, বিপথগামী এবং দ্বীন বিমুখ মানুষকে সুকৌশলে সাবলীল ভাষায় বুঝিয়ে সুপথে ফিরানো। সকল প্রকার মানুষের সাথে মেলামেশা করা।

অথচ এখন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য কিছু বিপথগামী এতাআতী নামধারী ভাই যেভাবে অপর এক আপন ভাইয়ের উপর নিজেদের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে ঝাঁপিয়ে পড়ছে তা কখনো একজন প্রকৃত তাবলিগ প্রেমীর কাজ হতে পারে না। ইতিহাসে ইতোপূর্বে এমন কোনো নজির ছিল না, যে তাবলিগওয়ালা কারো উপর আক্রমণ করেছে। প্রকৃত তাবলিগওয়ালা মার খায়। কিন্তু প্রতিবাদ করে না। আল্লাহর কাছে সকলের জন্য হেদায়াতের দোয়া করে। আর এখন যারা নিজ ভাইয়ের উপর আক্রমণ করছে নিশ্চিত বুঝা নিন তারা মোটেও তাবলীগি নয়। তারা তাবলীগি নামধারী জঘন্য সন্ত্রাসী।

আর সেই সন্ত্রাসীদের দমন করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

Comment

Share.

Leave A Reply