কেমন ছিলো প্রিয় নবি সা.’র জীবনাচার

0
আহমদ যাকারিয়া ::

বস্তুত মানুষের জীবন স্রোতবাহী নদীর ন্যায়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনবরত বইতেই থাকে, যদিও এর মধ্যে কখনো স্থিরতা আবার কখনো ধীরতা থাকে। তো জীবনের এই বর্ণিল বয়ে যাওয়া শেষ হয় যখন তার জীবনে সন্ধ্যা নেমে আসে তখন। জীবনের এই নান্দনিক প্রবাহে বিভিন্ন রূপায়ণ তৈরী হয়। এটা সময় ও পরিবেশের ভিন্নতার কারণে একেক সময় একেক ভাবে প্রবাহিত হয়।

মানুষের শৈশব থাকে, থাকে যৌবন ও বার্ধক্য। এই সময়গুলোর আবেগ ও অনুভূতি এক নয়, একেক সময়ের অভিজ্ঞতা একেকরকম, ভিন্ন ভিন্ন উপলব্ধি আঁচ করে প্রকৃতির পালাবদলে। শৈশব ও কৈশোরে হৃদয়ে যে স্বচ্ছ সুন্দর ও নির্মল অনুভূতি জাগে যৌবন ও বার্ধক্যে জাগে এর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অনুভূতি। শৈশব ও কৈশোর পেরিয়ে যখন তার জীবনে যৌবন ও তারুণ্যের ছোয়া লাগে তখন জাগে অসুস্থ ও অনির্মল অনুভূতি। ভাবাবেগের প্রাবল্যে দিশেহারা হয়ে যায়। তার অশান্ত মন এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। অজানা এক তৃষ্ণায় সে কাতর হয়ে পড়ে। ভুলে যায় তার জন্মের উদ্দেশ্য এবং মৃত্যুর পর অনন্ত অসীম জীবনের শান্তি সুখের সাফল্য।

যৌবন ও তারুণ্যের আদর্শ প্রতীক এবং শ্বাশ্বত বিধানের বাণী বাহক মুহাম্মদ সা. এর তারুণ্য ও যৌবন কেমন ছিলো? কেমন ছিলো তার যৌবনের দিনগুলো? শৈশব ও কৈশোরের স্বচ্ছ-সুন্দর ও কোমল অনুভূতির মধ্যে যখন তিনি একটা বিশেষ সময়ে এসে উপনীত হলেন, তারুণ্য ও যৌবনের কোন কলুষতা, কোন পঙ্খিলতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি ছিলেন সর্বদা সচ্ছ এবং পরিশিলীত জীবন বোধের অধিকারী। তার তারুণ্য উচ্ছল এবং যৌবনের উদ্যমতার সময়গুলো যেভাবে তিনি প্রবাহিত করেছিলেন এবং চির সুন্দর ও শ্বাশ্বত আদর্শ স্থাপন করেছিলেন তা সকল যুগের জন্য অনুসরণীয়।

সমাজের জুলুম, শোষণ, দরিদ্র, অসহায়ত্ব এবং রাষ্ট্রের চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য দেখে সদা সর্বদা তিনি ব্যাকুল ও অস্থির থাকতেন। তার এই ব্যাকুলতা ও অস্থিরতা তাকে প্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছিলো হিলফুল ফুযুল নামের সামাজিক কল্যাণকর একটি সংগঠন গড়ে তোলার। সেই সংগঠনের সংবিধান ও মূলনীতি ছিল দারিদ্র অসহায় ও দূর্গতদের সেবা করা। সমাজের শোষিত ও বঞ্চিতদের সাহায্য করা। অত্যাচারী শাসক ও প্রবঞ্চনাকারীকে বাধা প্রদান ও দমন করা। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং যাবতীয় অন্যায় দূরিভূত করা। মানুষের মধ্যে মৈত্রি স্থাপন করা। তরুণের চির সুন্দর ও শাশ্বত আদর্শ ও শিক্ষার প্রতিই নির্দেশ করেছে রাসূলের উজ্জলদীপ্ত যৌবনের এই কর্মকাণ্ড।

যুবকের চরিত্র সুন্দর ও শুভ্র হবে এবং তরুণেরা সমাজের কল্যাণ চিন্তায় ব্রতী হবে এটা ছিলো তাঁর জীবনের লক্ষ্য। তরুণরা সুন্দর ও কল্যাণকে ধারণ করবে এবং অসত্য, অসুন্দর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে। যুবক হবে চরিত্রের দিক থেকে ফুলের মত সুন্দর। সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্র যেন তার সৌন্দর্যতায় শুভস্মাত হয়। তাহলে তার জীবন সফল ও সার্থক হবে এবং মরেও অমর হবে।

Comment

Share.

Leave A Reply