এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের ৯ অধিকার

0

পবিত্র কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ মুসলমানদের মধ্যকার সম্পর্ককে ‘তারা পরস্পরের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল’ বলে ব্যক্ত করেছেন।

হাদীস শরীফে প্রিয় নবী (সা.) এই পারস্পরিক সহানুভূতিশীল সম্পর্ক ও মমত্ববোধ বজায় রাখতে নিজেদের মধ্যে বেশকিছু অধিকার রক্ষার কথা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। নিম্নে সহিহ হাদিস থেকে প্রাপ্ত এমনই ৯টি অধিকার তুলে ধরা হলো—

এক. যখন তার সাথে দেখা করবে তখন তাকে সালাম দিবে এবং সে সালাম দিলে তার সালামের উত্তর দিবে। আর ইসলামের অভিবাদনের নিয়ম হচ্ছে, ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা এবং এর জবাবে ‘ওয়া আলাইকুমুসসালাম’ বলা।

দুই. যখন সে হাঁচি দেবে, তখন তার হাঁচির জবাব দেবে। যখন হাঁচি দাতা হাঁচির পরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (প্রশংসা আল্লাহর) বলবেন, তখন তার হাঁচির জবাব হচ্ছে, ‘ইয়ারহামুকালল্লাহ’ (আল্লাহ আপনাকে দয়া করুন)। আবার হাঁচি দাতা তার প্রতি উত্তরে বলবেন, ‘ইয়াহদি কুমুল্লাহু ওয়া ইয়ুসলিহু বা-লাকুম’ (আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন ও আপনার বিষয়াদী সুন্দর করে দিন)।

তিন. অপর ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে যা নিজের জন্য পছন্দ।

চার. সে তার মুসলমান ভাইয়ের সাহায্য করবে এবং তাকে লাঞ্ছিত বা অসম্মান করবে না। যেখানে সে তার সাহায্য-সহযোগিতা দরকার সেখানে তাকে সাহায্য করবে।

পাঁচ. যে কোনো ব্যাপারে পরামর্শ চাইলে সুপরামর্শ দেবে।

ছয়. রুগ্ন হলে তার সেবা করবে বা দেখা করবে এবং মারা গেলে তার দাফন-কাফন ও জানাযাতে অংশগ্রহণ করবে।

সাত. তার সাথে বিনয়ী আচরণ করবে। কখনও অহঙ্কারী হবে না।

আট. তার গীবত বা পেছনে নিন্দা করবে না। তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। তাকে উপহাস করবে না। তার দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করবে না। তার প্রতি কোনো ধরনের অপবাদ দেবে না। তাকে ধোকা দেবে না, প্রতারণা করবে না। তাকে গালি দেবে না। তাকে হিংসা ও ঘৃণা করবে না। তার প্রতি মন্দ ধারণা করবে না। তার গোপনীয় বিষয় জানার জন্য গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত হবে না। তার সাথে খেয়ানাত করবে না এবং তিন দিনের বেশি তার সাথে রাগ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখবে না।

নয়. তার পদস্খলন বা ত্রুটি ক্ষমা করবে। তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে। তার পেছনেও তার সম্মান রক্ষা করবে। তার প্রতি ন্যায়বিচার করবে এবং তার সাথে এমন আচরণই করবে যা সে পছন্দ করে। সে বড় হলে শ্রদ্ধা করবে। ছোট হলে স্নেহ করবে। সাহায্যের প্রয়োজন হলে তাকে সাহায্য করবে।

Comment

Share.

Leave A Reply