‘তাবলীগের দু’পক্ষের কোন্দল উসকে দিচ্ছে হেফাজত’

0
আলী আজম ::

কী? শিরোনাম দেখে অবাক হচ্ছেন? ভাই থামুন প্লিজ। উত্তেজিত হবেন না। যেই শিরোনামটি দেখছেন এটা আমার নয়। এটা বাংলা ট্রিবিউন নামে একটি অনলাইন পত্রিকার তাবলীগ বিষয়ক আজকের এক নিউজের শিরোনাম। সেই নিউজে তারা দাবী করেছে তাবলীগের চলমান দ্বন্দ্ব সমাধান না হয়ে দিনদিন তা বৃদ্ধি পাবার পিছনে হেফাজতের উসকানি রয়েছে। অর্থাৎ হেফাজত তাবলীগের এই দ্বন্দ্ব বৃদ্ধির পিছনে মূল ভূমিকা রাখছে বলে রিপোর্টার অভিযোগ করেছেন। নিউজে রিপোর্টার আরো উল্লেখ করেছেন ‘টঙ্গি ইজতিমা মাঠে দু’পক্ষের সংঘর্ষের পর সরকার তাবলীগের দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য নানানভাবে চেষ্টা করলেও হেফাজতের কারণে সফল হচ্ছে না তা। হেফাজত দেশব্যাপী দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে চলেছে!

নিউজে আরো দাবী করা হয়েছে ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে সা’দ বিরোধীদের নিয়ে বিক্ষোভ করছেন হেফাজতের অনুসারীরা’। এছাড়াও নাকি দেশের বিভিন্ন মসজিদে সা’দ অনুসারীদের ওপর হামলা, মারধর ও হেনস্থার অভিযোগও পেয়েছেন তারা। সা’দ বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে সারাদেশে সা’দের অনুসারীদের প্রতিহত ও মামলা দায়েরের প্ররোচনা দিচ্ছে বলেও হেফাজতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এই অনলাইন নিউজ পোর্টালটি। এছাড়াও রিপোর্টার তাবলীগের দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব বৃদ্ধির পিছনে হেফাজতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরীর অংশগ্রহণে টঙ্গি হামলার দোষীদের বিচারের দাবীতে পালিত বিক্ষোভের কথা।

যেই বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরী সাহেব বলেছিলেন, ‘ইজতিমার মাঠে আলেম এবং ছাত্রদের যারা রক্ত ঝরিয়েছে, এদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। আর হামলার উসকানিদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দীন, ফরীদ উদ্দীন মাসউদ ও তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে’। রিপোর্টার বরাবারের ন্যয় এখানেও হেফাজত আমীরকে জড়াতে ভুল করেননি। বিগত ২৮ জুলাই কওমী আলেমদের উদ্যোগে সর্বপ্রথম তাবলীগ জামাত নিয়ে ওয়াজাহাতি যে জোড় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে হেফাজত আমির অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর এটাই তাঁর দ্বন্দ্ব বৃদ্ধির পিছনের কারণ হিসেবে রিপোর্টার বুঝাতে চেয়েছিলেন।

এই নিউজ পোর্টালকে উদ্দেশ্য করে সংক্ষেপে কয়েকটা কথা বলছি। প্রথমত হেফাজত তাবলীগের দ্বন্দ্ব উসকে দিচ্ছে বলে যে অভিযোগ করেছে তা একটি ডাহামিথ্যে কথা। কারণ আজ পর্যন্ত তাবলীগ বিষয়ে হেফাজতের ব্যানারে একটা মিটিং মিছিল পর্যন্ত হয়নি। টঙ্গি হামলার পর থেকে বিভিন্ন প্রান্তে যেসব প্রতিবাদ সমাবেশ হয় এর সবগুলো তাওহীদি জনতা আর তাবলীগ প্রেমীদের উদ্যোগে হয়। দ্বিতীয়ত টঙ্গির হামলা ছিল এক পক্ষীয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষ বলে রিপোর্টার এখানে চরম মিথ্যাচার করেছেন।তৃতীয়ত আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরী বিক্ষোভ সমাবেশে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলো মিথ্যে নয়। হামলাকারী আর উস্কানিদাতারাই প্রকৃত দোষী। তাই তাদের বিচার হওয়া উচিৎ। চতুর্থ, হেফাজত আমীরের ওজাহাতী জোড়ে অংশগ্রহণ ছিল গুরু দায়িত্ব পালন।

জাতি জানে কারা উস্কানিদাতা। তাদের পতন আসন্ন।

Comment

Share.

Leave A Reply