খামোশ! স্বাধীনতাকে খুঁজছি আমি

0

রশীদ জামীল ::

ভাসানী! তুমি মাওলানা দাবি করো কে-মনে/কোন মাদরাসায় পড়েছিলা তুমি, টাইটেল দিছলা কোন সনে/তুমি মাওলানা দাবি করো কে-মনে!

একাত্তরের গান। পাকিস্তানপন্থিরা একাত্তরে এমন গান বানিয়েছিল। ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। পাকিস্তানের জুলুম নির্যাতনের মেকাবেলায় সবসময় বুলন্দ কণ্ঠে প্রতিবাদী নাম ছিল মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। স্বাধীন পূর্ব-পাকিস্তানের আওয়াজ সর্বপ্রথম তিনিই উঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভাসানীকে মাইনাস করে কমপ্লিট হতে পারে না। ভুলে যাওয়া সেই নামটি গত দুইদিন থেকে আবার আলোচনায় এসেছে। নিয়ে এসেছেন গণফোরামের সভাপতি এবং ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড কামাল হোসেন।

দুই
মাওলানা ভাসানীর চারিত্রিক যে দিকটি আমাকে সবচে বেশি আন্দোলিত করে সেটিহল তাঁর নৈতিকতা। নীতির প্রশ্নে আপোষহীন একটি জীবন কাটিয়ে গেছেন তিনি। যেমনি বলেছিলাম, পাকিস্তানের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন স্বোচ্চার, একইভাবে স্বাধীনতাউত্তর ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও তাঁর কন্ঠ স্বোচ্চার ছিল। আর এখানেই অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে তাঁর ব্যবধান। আওয়ামীলীগ শুধু পাকিস্তানের ফাইজলামী নিয়েই কথা বলে। ভারতের ফাইজলামীর বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করতে চায় না। ভাসানী ছিলেন ব্যতিক্রম। অন্যায় তাঁর কাছে অন্যায়ই ছিল। সেটা ভারত করুক আর পাকিস্তান করুক।

১৯৭৬ সালে ফারাক্কা অভিমুখে মাওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক লংমার্চ ভারতের আধিপত্ববাদের বিরুদ্ধে বালাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় প্রধান প্রতিবাদ ছিল। প্রথম প্রতিবাদ ছিল মেজর জলিলের। স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশ থেকে ট্রাক ভরে ভরে বাংলাদেশের সম্পদ ভারতে পাচার করে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন সেক্টর কমান্ডার মেজর মোহাম্মাদ আব্দুল জলিল।
অথচ দুঃখজনক হলেও স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রদ্রোহি মামলার আসামী হতে হয়েছিল সেই মেজর জলিলকেই। ফাঁসির আদেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কথাটিকে অন্যভাবে বললে, একটি দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের একজনকে ফাঁসির আদেশের মাধ্যমেই দেশটি তার যাত্রা শুরু করল। এই পাপের প্রায়শ্চিত্য আমরা কীভাবে করব?

তিন
মাওলানা ভাসানী যা বলতেন, সরাসরিই বলতেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭তে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছিলেন, পশিম পাকিস্তানিরা যদি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধ না করে, তাহলে পূর্ববঙ্গবাসী তাদেরকে আসসালামু আলাইকুম জানাতে বাধ্য হবে।

ঊণ সত্তরে ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খানের পতনের পর সবাই যখন নির্বাচন নির্বাচন করছিল, তখন ভাসানীর স্লোগান ছিল একটু ভিন্ন। তিনি তখন বলছিলেন, ভোটের আগে ভাত চাই, ইসলামিক সমাজতন্ত্র কায়েম করো… ইত্যাদি।

মাওলানা ভাসানী কখনো আপোষের রাজনীতি করেননি। আওয়ামীলীগের মানুষ হবার পরও, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা তাঁর অধীনে কাজ করার পরও একসময় সেই আওয়ামীলীগকে পর্যন্ত তিনি আসসালামু আলাইকুম বলতে দ্বিধা করেননি তিনি। আওয়ামীলীগের অনেক সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিলেন না। বাকশাল প্রতিষ্ঠা, চারটি রেখে সবগুলো পত্রিকার বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদির সাথে প্রকাশ্য দ্বিমত ছিল তাঁর। ১৯৭৩ সালে খাদ্যের দাবিতে ঢাকায় অনশন ধর্মঘট পালন করেন। তবে ঐ যে বললাম, নীতির প্রশ্নে আপোষ করতেন না। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেদিন সারাদিন বসে বসে কেদেছিলেন। কিছুই মুখে তুলেননি। আওয়ামীলীগের অনেক নেতা যখন সেদিন খোন্দকার মুশতাকের হাতে বায়আত করছিলেন, যাদের কেউ কেউ এখনো শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগের আস্থাভাজান, যারা বলবার চেষ্টা করেন সেদিন তারা পরিস্থিতির শিকার ছিলেন, তারা ভাসানীর বেলায় কী বলবেন। মুশতাক যখন তার পক্ষে একটি বিবৃতি দেওয়ার জন্য মাওলানা ভাসানীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করবার পর তিনি সেই অনুরোধকে ঘুণার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

চার
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিস ফাতেমা জিন্নার সমর্থনে ১৯৬৪ সালে নির্বাচনী জনসভা চলছে পিরোজপুরে। ফাতেমা জিন্নাহ আজীবন কুমারী ছিলেন। কথিত আছে তিনি বিয়ে করেননি ভাই মুহাম্মদ আলি জিন্নার কথা ভেবে। তিনি চাননি কেউ একজন তাঁর ভাইকে শালা বলুক।

জাঁদরেল সব নেতারা বক্তৃতা করার পর সবার শেষে বক্তব্য রাখার জন্য ঘোষিত হল ভাসানীর নাম। সাদা লুঙ্গি, সাদা পাঞ্জাবি ও মাথায় তালের টুপি পরিহিত কালো একজন মানুষ মাওলানা ভাসানী যখন বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়েছেন, জনতার মাঝে তখন বাঁধ ভাঙা জোয়ার। হাজারো জনতা এক সাথে দাঁড়িয়ে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তুলল পুরো ময়দান। মওলানা ভাসানী জিন্দাবাদ, আইয়ুব শাহী নিপাত যাক।

জনগণের শ্লোগান থামছিল না। মানুষের উচ্ছ্বাস কমছিল না। তখন জনতাকে শান্ত করতে যেয়ে মাওলানা ভাসানী তখন চিৎকার করে বলেছিলেন-
‘খামোশ’!
মন্ত্রমুগ্ধের মতো জনতা শ্লোগান বন্ধ করে খামোশ হয়ে গিয়েছিল। বসে পড়েছিল সবাই, যে যেখানে দাঁড়িয়েছিল।

মাওলানা ভাসানির সেই ঐতিহাসিক ‘খামোশ’ ড কামালের মাধ্যমে আবার আলোচনায় ফিরে এসেছে। তবে দুই খামোশে ব্যবধান হল, ৫৪ বছর আগে ১৯৬৪তে মাওলানা ভাসানী ‘খামোশ’ বলার পর আরো ১২ বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁকে তাঁর খামোশ ফিরিয়ে নিতে হয়নি। কিন্তু ড কামাল সাহেব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর খামোশ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

পাঁচ
কামাল হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ বঙ্গবন্ধুর যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, তিনিও সাথে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আপনজন ছিলেন ড কামাল। ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুকে যখন গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়, সেইরাতে, গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বাসায় যাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শলা-পরামর্শ করছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হল ড কামাল হোসেন।

এর আগে ১৯৭০ এর নির্বাচনে ড কামাল আওয়ামীলীগের টিকেটে জয়ী হয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ সরকারের আইনমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীও দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

সত্তরের সেই নির্বাচনটি বিভিন্ন কারণে বিশেষভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। আজ আমরা দুইটা কারণ নিয়ে একটু আলোচনা করতে চাই

১] সত্তরের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করা আওয়ামীলীগ প্রধান বঙ্গবন্ধুর হাতে পাকিস্তানের শাসনভার অর্পণে ইয়াহিয়া খানদের টালবাহানা করার কারণে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। অতঃপর ২৫শে মার্চের সেই কালোরাত, হানাদার পাক বাহিনির কাপুরুষিত আক্রমণ… নয় মাস যুদ্ধ…পাকিদের লেজগুটিয়ে পালানো… একটি স্বাধীন পতাকা… স্বাধীন বাংলাদেশ। সুতরাং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সত্তরের নির্বাচনকে টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়।

২] স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য একটা লিখিত রাষ্ট্রনীতি দরকার। যেটাকে আমরা সংবিধান বলি। ৭২ সালে বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু একটি কমিটি করে দিলেন। যে কমিটির অন্যতম একটি নাম ছিল তরুণ আইনজীবী ড কামাল হোসেন। সংবিধান প্রণীত হবার পর সেটিকে যথারীতি পার্লামেন্টে পাশ করিয়ে নেওয়া হয়। এখানে যে প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত রয়েগেছে, সেটিহল,

যে পার্লামেন্টে সংবিধানকে পাশ করা হয়েছিল, সেই পার্লামেন্ট ছিল বাংলাদেশের পার্লামেন্ট। কিন্তু সেখানে যারা মেম্বার অব পার্লামেন্ট ছিলেন, তাদের কেউ বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন পাকিস্তানের মানুষের ভোটে নির্বাচিত পাকিস্তান পার্লামেন্টের সদস্য। কারণ, উনিশশ সত্তরের নির্বাচনে যারা তাদেরকে ভোট দিয়েছিল, তাঁরা তখন পাকিস্তানের জনগণ, এবং পাকিস্তানের এমপি হওয়ার জন্যই ভোট দিয়েছিল। ১৬ই ডিসেম্বর আমরা যখন স্বাধীন হয়ে গেলাম, তারপর থেকে আমরা নতুন একটি দেশের নাগরিক। দেশটির নাম বাংলাদেশ। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ।

তাহলে অবস্থা যা দাঁড়াল, সেটিহল এই, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এমন কিছু মানুষ মিলে দেশটির সংবিধান পাশ করে দিলেন, যারা বিনাভোটে নির্বাচিত। অথবা অন্যদেশের জন্য নির্বাচিত। সঙ্গতকারণেই বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান তথা বাহাত্তরের সংবিধান কতটা বৈধভাবে পাশ করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নটি আজও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

ছয়
২০১৮’র আগে ড কামাল হোসেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনো সেভাবে প্রভাব বিস্তারকের ভূমিকায় আবর্তীত হতে পারেননি। তিনি নামেই একটা ব্র্যান্ড ছিলেন শুধু। ভোটের রাজনীতিতে মোটেও উল্লেখযোগ্য কেউ ছিলেন না। এই প্রথম তিনি জাতীয় রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। বিএনপি নামক মাজাভাঙা একটি দলের অথর্বতার কারণে তিনি এই সুযোগটা পেয়েছেন। অবস্থার প্রেক্ষিতে বিএনপিকেও মনেমনে ড কামাল-জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে হচ্ছে।

আমি ড কামালের পক্ষে নই-এটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য হল আমি তার বিপক্ষেও নই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির মাঝে নীতিগত পার্থক্য থাকলেও রাষ্ট পরিচালনায় আমি তাদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য দেখি না। সুতরাং ড কামাল, ঐক্যফ্রন্ট, আওয়ামী মহাজোট; কোনোটি নিয়েই আমার বাড়তি কোনো আগ্রহ নেই। ইলেকশন যেমনই হোক, ফলাফল যাই হোক, সরকার যে বা যারাই গঠন করুক, আমাদের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন হবার সুযোগ নেই। আজ যারা ড কামাল হোসেনে বুদবুদ হয়ে আছেন, ভাবছেন ড কামাল এসে সবকিছু কামাল করে দেবেন, তারা এখনো দিবাস্বপ্নেই বিভোর হয়ে আছেন। ইতিহাস তার আপন গতিতেই আগায়। মানুষের স্বভাব কখনো পুরোপুরি পালটায় না। সময়ের কারণে সুযোগের অভাবে অথবা বিশেষ উদ্দেশ্যে মাঝেমধ্যে একটু আড়াল হয়, এই যা।

সাত
সাম্প্রতিক সময়ে আলেম-উলামার উল্লেখযোগ্য একটা অংশ ড কামালে বুঁদ হয়ে আছেন! আমি অবাক হইনি। হাসিনা খালেদা এরশাদের সাথে নির্বাচনী জোট করা জায়েজ হলে ড কামালের সাথে কেন নয়। তবে যে কারণে কিছুটা অবাক না হয়ে পারিনি, সেটিহল কারো কারো অতি উচ্ছ্বাসি কথাবার্তা এবং অতি আবেগী আচরণ। অতীত আঁকড়ে ধরে আগানো যায় না, কথা ঠিক। তারমানে কি অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে সামনে আগাতে হবে। অতীতকে শিক্ষা হিশেবে সাথে রাখা হবে না?

তারমানে কি এই যে, আলেম উলামা যখন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আদালতে গেছেন, তখন আলেমদের প্রতিপক্ষ হয়ে নাস্তিকদের প্রটেকশনে কে বা কারা দাঁড়িয়েছিল, সেটা ভুলে যাবেন?

তারমানে কি এই যে, আলেম-উলামা যখন খতমে নবুওয়াতের আকিদার সংরক্ষণে সরব হয়েছেন, তখন কাদিয়ানিদের পক্ষ হয়ে কে বা কারা সেদিন দাঁড়িছিলেন, সেটা ভুলে যেতে হবে?

আমি বিস্মিত হই আমাদের রাজনৈতিক ক্যালকুলেশন দেখে। মনেমনে ভাবি, আর কতকাল মার খাওয়ার পর আমরা রাজনীতির স্বরে-অ, স্বরে-আ শিখতে পারব? আর কতদিন চিল্লাফাল্লা করার পর আমরা বুঝতে শিখব আমড়া ছেড়ে জলপাই ধরার মাঝে তেমন কোনো ব্যবধান নেই। দুটোই টক। কবে আমাদের হারিয়ে ফেলা এহসাস শক্তি আমাদের মনে করিয়ে দেবে, উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে ঝাপ দেওয়ার মাঝে আনন্দের কিছু নাই।

আট
১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসে ড কামাল হোসেন সাংবাদিকদের উপর ত্যক্ত হয়ে তাদেরকে ‘খামোশ’ বলে ধমক দিয়েছিলেন। তাঁর জোটের সাথে জামাতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন করতে থাকায় ক্ষেপে গিয়েছিলেন তিনি। কাজটি করার পর তাঁর নিজের বাড়িওয়ালারা ঘুমে থাকলেও পাড়া প্রতিবেশিদেরকে সেটা নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠতে দেখা গেল। যেন এতদিনে তিনি একটি কাজের কাজ করেছেন।

কিন্তু একদিন পর ড কামাল যখন ঘোষণা দিলেন, কাজটি তিনি সঠিক করেননি, তাঁর ভুল হয়েছিল, এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করছেন, এখন তাঁরা কী বলবেন, যারা অতিশয্যা নিয়েছিলেন!

ইদানীং কিছু আলেম-উলামা কামাল বন্ধনায় মেতে আছেন। সব সমস্যার সমাধান এই একজনে খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। সমস্যা নেই। যার যার রাজনীতি, তাঁর তাঁর ভবিষ্যত। কিন্তু তাদের জন্য ড কামাল সাহেব গতকাল (১৫ই ডিসেম্বর) পুরনো যে উপহারটি নতুন করে প্যাকেট করে দিলেন, এই উপহারটি তাঁরা কোথায় রাখবেন?

ডক্টর কামাল বলেছেন, ‘আশা করি, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা তাঁদের জীবনের বিনিময়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আমরা সবাই মিলে গড়তে সক্ষম হব।’

এবারের নির্বাচনে প্রধান দুটি জোট হচ্ছে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং ড কামালের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-সমন্বিত ঐক্যফ্রন্ট। আওয়ামীলীগের মূল স্লোগান ধর্মনিরপেক্ষতা। ড কামাল হুসেন ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টায় আছেন। সুতরাং প্রমাণ হল, দুই জোটের উদ্দেশ্যের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান!!

নয়
আজ ১৬ই ডিসেম্বর। আজ আমাদের বিজয় দিবস। কিন্তু সত্যিই কি আমরা বিজয়ী হয়েছি? আম আমাদের মুক্ত হওয়ার দিন। আসলেই কি আমরা মুক্তি পেয়েছি? বিজয়ের সাতচল্লিশ বছর পরেও যদি স্বাধীনতাটাকে খুঁজে ফিরতে হয়, তাহলে এই স্বাধীনতা আর পরাধীনতার মাঝে ব্যবধান কী, সেটাই আমাদের খুঁজে বের করা দরকার।

দশ
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, বিজয়ের এই দিনে তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। যত ভাই জীবন দিয়েছেন, যত বোন সম্ভম হারিয়েছেন, তাদের ত্যাগের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা। সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
চলুন, তাদের জন্য তিনবার সুরায়ে ইখলাস (ক্বুলহু আল্লাহু) পড়ে দোয়া করি। ফুল তাদের কোনো কাজে লাগবে না। সুরায়ে ইখলাস কাজে লাগবে। এবার আমাদের বিজয়ের প্রতিপাদ্য হোক সুরায়ে ইখলাস।

ওরা ভালো থাকুক ওপারে।
আমরা ভালো থাকি এপারে।
ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মানুষ।

Comment

Share.

Leave A Reply